× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

স্থানীয় সরকার কি এখন বিএনপির 'পুনর্বাসন কেন্দ্র'?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:১২ এএম । আপডেটঃ ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:১৩ এএম

স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে ৪২ জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশনের পর এবার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদেও দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন এক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করার দোহাই দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কি আদতে দলীয় নেতাকর্মীদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পরিণত করা হচ্ছে?

সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে এখন সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করবেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এদের মধ্যে অনেকেই গত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন অথবা দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, আমলাদের সরিয়ে রাজনীতিকদের বসানোর এই প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বিলম্বিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক প্রশাসকরা বেশি কার্যকর সেবা দিতে পারবেন। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই নিয়োগকে ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি’ এবং ‘পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম এবং উত্তরে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত নেতা শফিকুল ইসলাম খানকে প্রশাসক করায় রাজনৈতিক মহলে ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। একইভাবে খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুরে শওকত হোসেন সরকার এবং সিলেটে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় স্থানীয় সরকারে স্থবিরতা এসেছিল। রাজনীতিকরা হয়তো সেই স্থবিরতা কাটাতে পারবেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব।"

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত স্থানীয় সরকার কমিশন তাদের রিপোর্টে নির্দলীয় নির্বাচন এবং দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিলের জোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সদস্য অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলামের মতে, সুপারিশ ছিল দলীয় রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে জনগণের অংশীদারিত্ব বাড়ানো। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারের পথে না হেঁটে উল্টো ৪২ জেলায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে কর্তৃত্ববাদের পুরনো পথই বেছে নিল কি না, সেই শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, "প্রশাসক নিয়োগ একটি কুপ্রথা। এটি মূলত দলীয় নেতাদের পুনর্বাসন প্রকল্প। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে না, ফলে সাধারণ মানুষ মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।"

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আদালতের রায়ে মেয়র পদ ফিরে পাওয়া ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়া আর কোনো সিটিতে বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। কাউন্সিলর না থাকায় নাগরিক সেবা এমনিতেই বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ওপর প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের আসীন হওয়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের একটি পথ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—এই রাজনৈতিক নিয়োগগুলোর মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা, নাকি দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমালোচনার পাল্লা ভারী করা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.