× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

স্পিকার হলেন বীর বিক্রম মেজর হাফিজ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ এএম । আপডেটঃ ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ এএম

মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: বিটিভির সৌজন্যে

একাত্তরের রণাঙ্গনের দুঃসাহসী যোদ্ধা, জাতীয় দলের কিংবদন্তি ফুটবলার এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি এই পদে আসীন হন। সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বিএনপির এই নীতি নির্ধারক ও ভোলা-৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্যের স্পিকার হিসেবে অভিষেক বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৪৪ সালে ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করা হাফিজ উদ্দিন আহমদের রক্তে মিশে আছে জনসেবার উত্তরাধিকার। তাঁর পিতা ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা শেষে ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের তরুণ অফিসার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে তাঁর বীরত্বগাথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা। বিশেষ করে ৩১ জুলাই কামালপুর বিওপি আক্রমণে গুরুতর আহত হওয়া এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে সিলেটের এমসি কলেজ রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীকে পর্যুদস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ছিল অসামান্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্র তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদের জীবনের আরেক বর্ণিল অধ্যায় তাঁর ক্রীড়াজগত। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের ‘দ্রুততম মানব’ হিসেবে ট্র্যাক কাঁপানো এই ক্রীড়াবিদ ফুটবল মাঠেও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ ১২ বছর মাঠ মাতানো হাফিজ ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে তেহরানে আরসিডি প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেন। ফুটবলে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ফিফা তাঁকে ‘সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট’ প্রদান করে এবং বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার হিসেবে সম্মানিত করে।

১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় তিনি বাণিজ্য, পানিসম্পদ ও পাট মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান সংসদে তিনি সপ্তম বারের মতো নিজ নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রাজ্ঞ এই রাজনীতিকের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক। তাঁদের দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছেন।

স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষা এবং আইনসভার মর্যাদা সমুন্নত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.