শেরপুর-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। দলীয় কোন্দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে এই আসনে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
শেরপুর-১ (সদর) আসনে ৪১ বছর পর ধানের শীষের জয়ের যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনই তাঁর পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট। অন্যদিকে, বিএনপির ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। তবে ভোটের এই ব্যবধানকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রাপ্ত ভোট। স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করে তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধানের শীষের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় সহজ জয় তুলে নিয়েছে জামায়াত। প্রিয়াঙ্কা ও মাসুদের প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৭ ভোট, যা জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১৩ হাজার বেশি। অর্থাৎ, দলের একক প্রার্থী থাকলে চার দশক পর আসনটি বিএনপির দখলে আসার জোরালো সম্ভাবনা ছিল।
পরাজিত প্রার্থী ডা. প্রিয়াঙ্কার ভরাডুবির পেছনে জেলা বিএনপির চরম কোন্দলকে দায়ী করছেন স্থানীয় নেতারা। বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ছাত্রদল ও যুবদলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠের কর্মীদের একটি বিশাল অংশ তাঁর পক্ষেই কাজ করেছেন।
কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বারবার চেষ্টা করেও মাসুদকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়া বা দুই পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। এই বিভাজনের ফলে ভোটের মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শেরপুর সদর আসনে বাকি প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট ছিল নগণ্য। জাতীয় পার্টির মাহমুদুল হক মনি (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৭৫১ ভোট, এনসিপির লিখন মিয়া (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস উদ্দিন (কাপ পিরিচ) পেয়েছেন মাত্র ২০৫ ভোট।
স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ কর্মীদের আক্ষেপ, যোগ্য নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ইগো ও গ্রুপিংয়ের কারণে নিশ্চিত জয়ের আসনটি আবারও হাতছাড়া হলো।
বিষয় : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
