ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী বিএনপির বহিষ্কৃত সাত নেতা (কোলাজ)। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত সাত নেতা। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহের’ ঝাণ্ডা উড়িয়ে ভোটের মাঠে নামা এই সাতজন এখন কী করবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা সমীকরণ। জয়ী প্রার্থীদের প্রায় সবাই দলে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেও বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো সবুজ সংকেত মেলেনি।
কার কী অবস্থান
বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ছয়জনই সরাসরি বিএনপিতে ফেরার এবং দলের হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নারী প্রার্থী রুমিন ফারহানা এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি।
রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)
‘হাঁস’ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী এই নেত্রী বর্তমানে অসুস্থতার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দলে ফেরার বিষয়েও তিনি নীরবতা পালন করছেন।
লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩)
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি দলেই আছি। বহিষ্কারের বিষয়ে কিছু মনে করিনি। আমৃত্যু বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চাই।”
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫)
শুরুতে মনোনয়ন পেয়েও পরে বঞ্চিত হওয়া এই নেতা বলেন, “দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে। দল পাশে চাইলে আমি প্রস্তুত, নতুবা স্বতন্ত্র হিসেবেই ভূমিকা রাখব।”
এম এ হান্নান (চাঁদপুর-৪)
‘চিংড়ি’ প্রতীকে জয়ী হান্নান নিজেকে শতভাগ দলের লোক দাবি করে বলেন, আগে শপথ নেবেন, পরে প্রক্রিয়া মেনে দলে যোগ দেবেন।
এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫)
১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি ভোট পাওয়া এই নেতা বলেন, “দলে ফেরার বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে। তারা চাইলে আমি ফিরতে চাই।”
আতিকুল আলম (কুমিল্লা-৭)
দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও তিনি জানান, শপথ গ্রহণের পরই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এবার নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ৭৮টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এর মধ্যে সাতজন সরাসরি জয়ী হলেও অন্তত ২৮টি আসনে বিএনপির মূল প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে এই বিদ্রোহীরা বড় ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্রোহীদের ফেরানোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান এখনো কঠোর। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের দলে ফেরানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদে আসন সংখ্যা বাড়াতে এবং সাংগঠনিক ঐক্য মজবুত করতে শেষ পর্যন্ত এই বিজয়ীদের শর্তসাপেক্ষে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপির হাই কমান্ডের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
