ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে গিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী দেশে ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ সূচনা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফল ঘোষণার পর এই প্রথম দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুই দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জামায়াত আমির এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, বিজয়ীদের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়, সে বিষয়ে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দমনে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারেক রহমানের বেইলি রোডে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে।
নতুন সরকার গঠনের শপথ অনুষ্ঠানের আগে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও জোট শরিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত যোগাযোগকে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।