বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তাঁর সম্ভাব্য বাসভবন নিয়ে দাপ্তরিক পর্যায়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’কে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্তের ফলে এই আবাসন সংকট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ঠিকানা হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র নাম আলোচনায় রয়েছে। সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ জানিয়েছিলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যমুনা নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে সেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অবস্থান করছেন। নিয়ম অনুযায়ী, দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি আরও কিছুদিন সেখানে থাকার অধিকার রাখেন। এরপর বাড়িটি সংস্কার ও আসবাবপত্র সংযোজনে অন্তত দুই মাস সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, তারেক রহমান বর্তমানে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থান করছেন। কোনো কোনো সূত্র বলছে, স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকতে পারেন অথবা মায়ের স্মৃতিবিজড়িত ‘ফিরোজা’য় উঠতে পারেন। ইতোমধ্যে গুলশানের বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তারক্ষী ও দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধার অভাব থাকায় দীর্ঘমেয়াদে সেখানে থাকা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, যমুনা দীর্ঘমেয়াদে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিরাপদ নয়। যমুনার দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএন সদস্য এম এ মেনন জানান, যমুনা তিন দিক থেকে ব্যস্ত সড়ক বেষ্টিত এবং ভিভিআইপিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত নয়। বিশেষ করে ৫ বছরের মেয়াদে থাকা রাজনৈতিক সরকারের প্রধানের জন্য এটি উপযোগী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে গত বছর উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার পরিকল্পনা করা হলেও লুই আই কানের মূল নকশা পরিবর্তনের আশঙ্কায় তা বাতিল করা হয়। শেরেবাংলা নগরের পরিত্যক্ত বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব এলেও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সেটিও এগোয়নি।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আপাতত প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান বাসভবনটিই প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর কারিগরি ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শের ওপর।
উল্লেখ্য, যমুনা মূলত বিদেশি অতিথিদের জন্য নির্মিত হয়েছিল। এর আগে তিনজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান এখানে অবস্থান করলেও রাজনৈতিক সরকারের প্রধানের জন্য এটি স্থায়ী আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
