ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এনসিপির ছয় নেতা (কোলাজ)। ছবি: সংগৃহীত
আত্মপ্রকাশের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই জাতীয় সংসদের ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই নতুন রাজনৈতিক দলের সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দলটির দাবি, ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার’ প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলনই এই বিজয়।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। দল গঠনের সময় তারা নিজেদের ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার ধারক’ এবং প্রথাগত ভূ-রাজনৈতিক বলয়মুক্ত নিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। ঢাকা-১১ আসনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জয় এবং রংপুর-৪ আসনে সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বিজয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন— কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, নোয়াখালী-৬ আসনে হান্নান মাসউদ, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আব্দুল্লাহ আল আমিন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই জয়ের পেছনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন এবং আধুনিক প্রচারণাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিকল্প রাজনৈতিক ভাষ্যের মাধ্যমে আমরা মানুষকে বোঝাতে পেরেছি যে, অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় এনসিপি রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাতেই লড়বে।”
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জয়ের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংহত ভোটব্যাংক এবং প্রচলিত রাজনীতির প্রতি একশ্রেণির ভোটারের অনীহাও বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রত্যাশিত ফল পুরোপুরি আসেনি উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী খুব অল্প ব্যবধানে হেরেছেন। অনেক আসনে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।” তবে সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করতে এই অভিযোগগুলো আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন দলের আবির্ভাব নতুন নয়, তবে সেগুলোর টিকে থাকার হার খুবই কম। এনসিপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জোটনির্ভরতা কমিয়ে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ দাঁড় করানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানো।
দলটি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সংখ্যার বিচারে ‘ছয়’ বড় না হলেও, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তরুণ নেতৃত্বের এই অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন দেখার বিষয়, সংসদের ভেতরে এই নতুন ‘বিকল্প কণ্ঠ’ কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
