ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অনেক হেভিওয়েট ও পরিচিত প্রার্থী ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রদত্ত বৈধ ভোটের ন্যূনতম আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) পেতে ব্যর্থ হওয়ায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহসহ বেশ কয়েকজন আলোচিত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান ও অভিনেত্রী মেঘনা আলমের মতো নতুন মুখগুলো।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে ‘কেটলি’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪ শতাংশ। জামানত রক্ষায় তাঁর প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। একই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন মাত্র ৪৩৪ ভোট। এই আসনে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি বৈধ ভোট পড়লেও অভিজ্ঞ এই দুই রাজনীতিকের এমন ভরাডুবি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা-১২ আসনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই আসনে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা (২,৪৪৪) তাঁর প্রাপ্ত ভোটের দ্বিগুণেরও বেশি। এই আসনে ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম।
অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন মাত্র ৬০৮ ভোট। এই আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র ০.৫২ শতাংশ। এই আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন বিএনপির এরশাদ উল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীর জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় উল্লিখিত প্রার্থীদের জামানত আর ফেরতযোগ্য নয়।