ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দুপুরে সরাইলে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যতিক্রমী বিষয় ছিল, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তাঁর কোলে ছিল নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’।
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতীক হিসেবে হাঁস বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল গভীর আবেগ। তিনি বলেন, “মায়ের চাকরির সুবাদে শৈশবে বড় বাসায় থাকার সময় আমার অনেক হাঁস, মোরগ ও কবুতর ছিল। পরে ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে যাওয়ায় সেগুলো আর পালা হয়নি। তবে সরাইলের বাড়িতে এখনো আমার অনেক হাঁস-মুরগি আছে, যাদের সঙ্গে আমার অবসর সময় কাটে। সেই সখ্য থেকেই আমি হাঁস প্রতীক বেছে নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “হাঁসকে আমি লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে দেখি, যা শেষ পর্যন্ত আমাকে জয় এনে দিয়েছে।”
নিজের রাজনৈতিক যাত্রার চেয়েও কর্মীদের ত্যাগকে বড় করে দেখছেন এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার লড়াই কঠিন ছিল, তবে কর্মীদের লড়াই ছিল আরও বেশি দুঃসাধ্য। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও তাঁরা গত ১৭ বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে মাঠে পড়ে ছিলেন। আমি পরাজিত হলে হয়তো ঢাকায় ফিরে নিজের পেশায় মন দিতাম, কিন্তু এই কর্মীদের কী হতো? তাঁদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারব না।”
বিজয় সত্ত্বেও নির্বাচনের দিন দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগ তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, জালিয়াপাড়া কেন্দ্রসহ বেশ কিছু জায়গায় ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি একটি কেন্দ্রে নিজে উপস্থিত হয়ে প্রতিপক্ষ ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের কর্মীদের বাধা ডিঙিয়ে পুনরায় ভোট গণনা নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুনরায় গণনায় কিছু জাল ভোট ধরা পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ৩৮ হাজার ১১৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে রুমিন ফারহানা এ আসন থেকে প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন।