দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএনপির সাত নেতা। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির সাত ‘বিদ্রোহী’ নেতা শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা এই নেতাদের নির্বাচন চলাকালেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ভোটের লড়াইয়ে তাঁরা বিএনপি সমর্থিত জোট ও ধানের শীষের প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির বঞ্চিত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। এতে অনেক আসনেই বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই সাতটি আসনে বিদ্রোহীরা বিজয়ী হলেও আরও অনেক আসনে ভোট ভাগাভাগির কারণে জোটের প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।
৭ আসনের নির্বাচনী চিত্র ও জয়ের ব্যবধান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ
এই আসনটি বিএনপি শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বিএনপির বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে তিনি ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পান ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী)
জোটের সমীকরণে এখানে ধানের শীষ পেয়েছিলেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ১৩ হাজার ৯২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ২১০ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)
সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা লুৎফর রহমান খান আজাদ দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল প্রতীকে লড়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৭৯৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ওবায়দুল হক নাসির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৭৩৪ ভোট।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)
বিএনপির অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুর্গে ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশীদকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুল হান্নান। তিনি পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৫৯৯ ভোট। ধানের শীষের হারুনুর রশীদ পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৩৩ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা)
এলডিপি থেকে বিএনপিতে আসা রেদোয়ান আহমেদকে ৪২ হাজার ৮৯৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা আতিকুল আলম শাওন। তিনি পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)
জীবনের প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেছেন উত্তর জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সালমান ওমর রুবেল। তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে পরাজিত করেছেন।
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী)
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি জোট ও দলীয় প্রার্থী উভয়কেই ভোটের লড়াইয়ে পেছনে ফেলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব আসনে স্থানীয় জনপ্রিয়তার তুলনায় দলীয় সমীকরণ বা জোটের প্রার্থীরা ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, দল থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যরা সংসদে বিএনপির সঙ্গে ফিরবেন কি না।
বিষয় : রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
