আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনসহ ৯টি মৌলিক বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির ইশতেহারে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে, যার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। এছাড়া কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, বিমা ও সহজ ঋণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। শিক্ষাক্ষেত্রে ‘মিড-ডে মিল’ চালু এবং কর্মমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নসহ সরকারি নিয়োগে মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ চালুর বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ১০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়ার কথা বলেছে বিএনপি। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নেতৃবৃন্দের জন্য প্রশিক্ষণ ও সম্মানীভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে বলা হয়, এই প্রতিশ্রুতি কেবল ভোটের রাজনীতি নয়, বরং এটি একটি রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সনদ। বিএনপি স্পষ্ট করেছে যে, তারা প্রতিশোধের রাজনীতি নয় বরং ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দলটির অঙ্গীকার—‘ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু’। লুটপাটমুক্ত উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং ভয়হীন অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য।