বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ও দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়। সভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির বলেন, “জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে। কিন্তু বর্তমানে ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ নামে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজি চলছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার, এমনকি ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এই চাঁদাবাজি আমরা চিরতরে বন্ধ করে দেব। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে একটি টাকাও অবৈধভাবে কারও পকেটে যেতে দেওয়া হবে না।”
অন্য একটি দলের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দুই হাজার টাকার কার্ডের মতো কোনো সস্তা ওয়াদা দিচ্ছি না। সামান্য টাকা দিয়ে একটি পরিবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। আমরা খয়রাতি অনুদান দিয়ে যুবসমাজকে অপমানিত করতে চাই না; বরং তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।” এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে দেখা গেছে সাহায্যের টাকা জনগণের হাতে পৌঁছানোর আগেই খাজনার নামে অর্ধেক কেটে নেওয়া হতো। সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি জনগণ চায় না।
বিগত ১৭ বছরের ভোটাধিকার হরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে আমাদের সামনে আসে, তবে ৫ আগস্টের মতোই তাদের পরিণতি হবে। দেশের মানুষ আর কোনো নতুন ভোট ডাকাত দেখতে চায় না।” তিনি আরও বলেন, যারা নিজ দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস থেকে মুক্ত রাখতে পারবে, তারাই কেবল আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে।
সভায় জামায়াতের আমির ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন আসনের চারজন প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেন— সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২), মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান (ঢাকা-১৪), আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬) ও স ম খালিদুজ্জামান (ঢাকা-১৭)।
একই মঞ্চে সমঝোতা জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতেও দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নাহিদ ইসলামের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’র সমন্বয়ে এর নাম দেন ‘পাল্লাকলি’ এবং জোটের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা নারীদের কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। কিছু বন্ধুকে বলতে চাই, মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না; তাহলে কিন্তু দেশে আগুন জ্বলবে।” এছাড়া মনিপুর হাইস্কুলসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
জনসভায় এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জনগণ এখন লোকদেখানো ফ্ল্যাট চায় না, তারা চায় নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। অতীতে যারা ফ্ল্যাট দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল, তারাই বস্তিতে আগুন দিয়েছে ও উচ্ছেদ করেছে।”
ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ শরিক দল ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
