× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

শহীদ পরিবারগুলোর জন্য আলাদা বিভাগ করা হবে: তারেক রহমান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪২ পিএম । আপডেটঃ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৪ পিএম

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা হবে। আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ঘোষণা দেন।

তারেক রহমান বলেন, "১৯৭১ সালে যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন এবং ২০২৪ সালে যাঁরা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে লড়াই করেছেন, তাঁরা একই ধারার যোদ্ধা।" তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি অতীতে ক্ষমতায় থাকাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। এবার জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখভালের জন্য সেই মন্ত্রণালয়ের অধীনেই বিশেষায়িত বিভাগ চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, "যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের তো আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, কিন্তু তাঁদের উত্তরসূরিদের জীবনমানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আবশ্যিক দায়িত্ব। কারণ আপনারাও মুক্তিযোদ্ধা, আপনারাও এই সময়ের বীর যোদ্ধা।"

বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভয়াবহতা স্মরণ করে বিএনপি নেতা বলেন, "স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, আর সেই অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে।" জুলাই বিপ্লবে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদের রক্তদান এবং ৩ হাজার মানুষের আহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি ১৯ আগস্টের বক্তব্যের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই আন্দোলনে রিয়াজুল ইসলাম থেকে শুরু করে ৬ বছরের শিশু রিয়া পর্যন্ত কেউই রেহাই পায়নি। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবীদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল জনগণের মুক্তির লড়াই।

তারেক রহমান আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী জনতাকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আহতদের ক্ষতিপূরণ অর্থের বিনিময়ে সম্ভব নয়। তবে তাঁদের প্রকৃত সম্মান তখনই দেওয়া হবে, যখন আমরা তাঁদের স্বপ্নের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারব।"

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আবারও এমন শোকের ইতিহাস রচিত হতে পারে। তাই এই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। শহীদ পরিবারের সদস্যদের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ শুনে এসময় মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.