× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

শরিয়াহ আইন ও জামায়াত: নীতিগত পরিবর্তন নাকি নির্বাচনী কৌশল?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৫০ এএম । আপডেটঃ ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৬ এএম

ফাইল ছবি

আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে তাদের দীর্ঘদিনের কট্টর ভাবমূর্তির বিপরীতে এক ধরনের 'উদারপন্থী' অবস্থানের আভাস মিলছে। বিশেষ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে 'শরিয়াহ আইন' বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে দলটির আমিরের দেওয়া তথাকথিত আশ্বাস রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

গত বুধবার ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মার্থা দাস সাংবাদিকদের জানান, জামায়াত আমির তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তারা বাংলাদেশে ‘শরিয়াহ ল’ বা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে এবং সেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইন করবে না—এমনটি সরাসরি বলা হয়নি; বরং বলা হয়েছে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আইন প্রণয়ন বা পরিবর্তন করা হবে।

ধর্মভিত্তিক দল হওয়া সত্ত্বেও এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চমক। প্রথমবারের মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের দু’জন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মতে, জামায়াতের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পেরে দলটি এখন নিজেদের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে জনগণের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে চাইছে।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও সময়ের প্রয়োজনে তাদের গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন শর্ত পূরণে 'ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা'র পরিবর্তে 'গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা' শব্দবন্ধ যুক্ত করা হয়। বর্তমানে উচ্চ আদালতে নিবন্ধন বাতিল থাকলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে জামায়াত এখন রাজনীতির মূলধারায় বেশ সক্রিয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু প্রতিনিধি মনোনয়ন বা শরিয়াহ আইনের বিষয়ে নমনীয়তা মূলত নিজেদের গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে প্রমাণের একটি চেষ্টা।

জামায়াতের এই অবস্থানকে অনেকেই নিছক ‘নির্বাচনী কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস মনে করেন, ভোটের আগে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে তুষ্ট করতে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। অন্যদিকে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর মতে, দলটির ব্যাপারে মানুষের মনে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা কাটাতেই তারা এখন 'সফট ইমেজ' তৈরির চেষ্টা করছে।

তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াত এখন প্রথাগত ইসলামপন্থার চেয়ে আধুনিক ও সংস্কারবাদী ইসলামের দিকে ঝুঁকছে। এটি কেবল সাময়িক কৌশল নয়, বরং গত ৫০ বছরের ইতিহাসের বাইরে গিয়ে দলটির রাজনীতির একটি নতুন অধ্যায় হতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.