চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক পৌর বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, অস্ত্র উদ্ধারের নামে শামসুজ্জামানকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য শুভ নয়। বিচারবহির্ভূতভাবে নির্যাতন ও মৃত্যু প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অবমাননা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে কোনো অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তি নিশ্চিত হওয়াই জনগণের প্রত্যাশা।
এ ঘটনায় আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সকল সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সেনাবাহিনী একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।
পৌর বিএনপি নেতার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাতেই জীবননগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের সামনের সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁরা এই মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।