নির্বাচনী আসন বণ্টন নিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক জোটে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়া প্রধান দুটি জোটের অভ্যন্তরে আসন সমঝোতা নিয়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে গঠিত জোট, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের নির্বাচনী মোর্চা—উভয় পক্ষই এখন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অবিশ্বাসের মুখে। প্রার্থী চূড়ান্ত করা এবং আসন ছেড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিদ্রোহ ও শরিক দলগুলোর অনমনীয় অবস্থান জোট দুটির ভবিষ্যৎকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বরিশাল-৫
ইসলামী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটি এখন জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রার্থী হলেও একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
পীর সাহেবের প্রধান ঘাঁটিতে জামায়াতের এই অবস্থানকে 'অসৌজন্যমূলক' বলে অভিহিত করেছেন ফয়জুল করীম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা জামায়াত আমীরের আসনে প্রার্থী দেইনি, কিন্তু তারা এখানে প্রার্থী দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করেছে।" অন্যদিকে জামায়াতের যুক্তি হলো, ফয়জুল করীম দুটি আসনে (বরিশাল ৫ ও ৬) দাঁড়িয়েছেন। তাই সমঝোতার খাতিরে তাকে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
পটুয়াখালী-৩
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেও বইছে অবিশ্বাসের হাওয়া। পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে সমর্থন দেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপি তা মেনে নেয়নি। বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাসান মামুন সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এবং তৃণমূল বিএনপির প্রায় ৯০ শতাংশ নেতা-কর্মী তার পক্ষেই কাজ করছেন।
নুরুল হক নূর অভিযোগ করেছেন, জোটের শরিকদের জন্য বরাদ্দ করা আসনগুলোতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিএনপি শরিকদের পর্যাপ্ত আসন না দেওয়ায় তৃণমূলের মধ্যে "সব আসন দখলের" একটি নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামাল দিতে বিএনপি অনেককেই বহিষ্কার করলেও শরিক দলগুলো তাতে আশ্বস্ত হতে পারছে না। তাদের ধারণা, নির্বাচনের পর জয়ী হলে এসব নেতাদের আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অবশ্য জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাতে দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চেষ্টা চলছে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের জোটে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা আরও প্রকট। ইসলামী আন্দোলন অন্তত ১০০টি আসন দাবি করছে, যা তারা 'সম্মানজনক' মনে করে। সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সম্মানজনক আসন না পেলে জোটের দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষকেই নিতে হবে। দুই দলই প্রায় পৌনে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে রাখায় এই জোটের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, আসন ভাগাভাগির এই সমীকরণ ততই জটিল হচ্ছে। একদিকে বিএনপির তৃণমূলের সমর্থন না পাওয়া নিয়ে শরিকদের শঙ্কা, অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই—সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরের এই জোটবদ্ধ রাজনীতি এখন বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
