দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মনে করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মতে, সব রাজনৈতিক দলের জন্য এখনো সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই সভায় দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় নেতারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো পায়নি দেশবাসী। সন্ত্রাস নির্মূলে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই এবং নিয়মিত বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চললেও তা উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সভায় অভিযোগ করা হয় যে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ফুটে উঠেছে। জামায়াত নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন কোনো বিশেষ মহলের দিকে ঝুঁকে পড়লে তা নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করবে। এ ধরনের প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এ টি এম মা’ছুমের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচনী কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
- কার্যক্রম তদারকির জন্য একাধিক বিশেষ উপকমিটি গঠন।
- সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কাজ বণ্টন।
- নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা।
কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিমের পরিচালনায় সভায় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।