× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস

তারেকের ভরসা নিজস্ব আয়, জামায়াত নেতাদের দলীয় তহবিল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১০ পিএম । আপডেটঃ ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৪ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামায় উঠে এসেছে নির্বাচনী ব্যয়ের বিচিত্র সব উৎসের তথ্য। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস ও হিসাবের চিত্র পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা ও আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে মেটানোর পরিকল্পনা করেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের ব্যয়ের বড় অংশ আসছে দলীয় তহবিল থেকে। তবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা; তাদের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান ভরসা সাধারণ মানুষের দেওয়া ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ইসি সূত্র অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় ঢাকা-১৭ আসনে তিনি সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ এবং বগুড়া-৬ আসনে ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। তবে তারেক রহমান দুই আসনেই ৩০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, এই অর্থ আসবে তাঁর কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত থেকে। বর্তমানে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে লড়ছেন, যেখানে তাঁর ব্যয়সীমা ৩৫ লাখ টাকা। তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যয়ের মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট ২৫ লাখ টাকা দলীয় অনুদান হিসেবে পাবেন। দলীয় সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা থেকে এই অনুদান দেওয়া হবে।

একইভাবে খুলনা-৫ আসনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ৩০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ টাকাই আসবে দলীয় তহবিল থেকে। বাকি অর্থ নিজস্ব ব্যবসা, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান থেকে সংগৃহীত হবে।

নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরিতে সচেষ্ট জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নাহিদ ইসলামের সম্ভাব্য ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৪৪ লাখ টাকাই আসবে জনগণের দেওয়া ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ থেকে। নিজস্ব আয় থেকে তিনি খরচ করবেন মাত্র ১ লাখ টাকা। রংপুরের প্রার্থী আখতার হোসেনও তাঁর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যের মধ্যে ৪৯ লাখ টাকাই গণ-অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সম্ভাব্য ব্যয় ধরেছেন ৫১ লাখ ১৬ হাজার ২০০ টাকা। এই অর্থ তিনি ব্যবসা, কৃষি, পরামর্শক ফি ও সম্মানী ভাতা থেকে যোগান দেবেন। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটারপ্রতি ১০ টাকা বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা (যেটি বেশি) ব্যয়ের বিধান থাকলেও বাস্তবে এই সীমা লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। টিআইবি’র গত নির্বাচনের গবেষণা বলছে, প্রার্থীরা নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেন।

সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচনে টাকার খেলা এখন অকল্পনীয় পর্যায়ে। আমরা রাজনৈতিক দলের আর্থিক স্বচ্ছতা ও অডিট নিয়ে যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ইসি তা আমলে নেয়নি। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের দেওয়া হিসাব কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.