জোরপূর্বক এবং ‘মব’ তৈরি করে বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মান্না জানান, তিনি ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হলেও বগুড়া-২ আসনে তা বাতিল করা হয়েছে।
বগুড়ায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরে মান্না বলেন, "সেখানে প্রার্থী বাছাইয়ের নামে রীতিমতো ‘মোবোক্রেসি’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ) চলেছে। একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে ১২ জন আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এমনকি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। তারা উচ্চস্বরে কথা বলে পরিবেশকে প্রভাবিত করেছেন। আমার প্রতিনিধিদের যুক্তি দেওয়ার সময় ধমক দেওয়া হয়েছে। ডিসির পাশে বসে তারা এমন আচরণ করছিলেন যেন তারাই নির্দেশ জারি করছেন।"
ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থিতা বৈধ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মান্না বলেন, "সুষ্ঠু নির্বাচনের গুণমান নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের যথাযথ দায়িত্ব পালনের ওপর। কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে বা মব তৈরি করে যদি কমিশনকে প্রভাবিত করা হয়, তবে সেই নির্বাচনের কোনো মূল্য থাকে না। যে শহীদরা জীবন দিলেন, যে আন্দোলন হলো—সবই বৃথা হয়ে যাবে।"
ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মান্না ব্যাখ্যা করেন, উচ্চ আদালত ইতিমধ্যে সিআইবি তালিকায় তার নামের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। ফলে আইনিভাবে তার নির্বাচনে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, "ব্যাংকের বিষয়টি আদালত নিষ্পত্তি করেছেন। কিন্তু বগুড়ায় অত্যন্ত তুচ্ছ ও হাস্যকর কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যেমন—সই করার সময় তারিখ ভুল হওয়া। এই সামান্য ভুলের জন্য প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে না। প্রার্থীর ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া কমিশনের কাজ, বাদ দেওয়া নয়।"
বগুড়া-২ আসনে যুগপৎ আন্দোলনের পক্ষ থেকে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও বিএনপি সেখানে অন্য একজনকে চিঠি দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন মান্না। তিনি বলেন, "জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কেন এমন হলো তা আমি জানি না, আমার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি।" তবে বগুড়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি আপিলে আমি জিতব।"