ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন চিকিৎসক ও উদ্যোক্তা তাসনিম জারা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ব্যয়ের বড় একটি অংশ তিনি সংগ্রহ করেছেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদানের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রায় ৪৭ লাখ টাকা তিনি নির্বাচনী খরচ হিসেবে ব্যয় করবেন।
হলফনামার তথ্যমতে, জনসাধারণের কাছ থেকে তাসনিম জারা মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন। এই অর্থ তিনি সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) থাকাকালীন। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয় থেকে ২৩ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। পেশায় চিকিৎসক ও শিক্ষক তাসনিম জারার বার্ষিক আয় বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্বরত ছিলেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গড়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৩১ বছর বয়সী এই তরুণী।
হলফনামা অনুযায়ী তাসনিম জারার কোনো স্থাবর সম্পদ (জমি বা বাড়ি) নেই। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে:
- নগদ টাকা: ১৬ লাখ টাকা।
- বৈদেশিক মুদ্রা: ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা (২ হাজার ২৭০ পাউন্ড)।
- সোনা ও অলঙ্কার: ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
- ব্যাংক জমা: ১০ হাজার ১৯০ টাকা।
তাসনিম জারা তাঁর হলফনামায় স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহকে নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পেশায় উদ্যোক্তা খালেদ সাইফুল্লাহর দেশের অভ্যন্তরে কোনো আয় না থাকলেও প্রবাসে তাঁর বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তিনি বছরে ৪ হাজার ৮০০ পাউন্ড আয় করেন। স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পদ নেই এবং ২৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাসনিম জারা বছরে ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন এবং তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা।