ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ নস্যাৎ করতে চাইছে।
শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল সাম্প্রতিক হামলার একটি খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রাতে রাজধানীর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীরের ওপর হামলা, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং উত্তরা এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন এবং ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পুনরায় অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন এবং রাজশাহীতে গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, যা চরম উদ্বেগের।"
সহিংসতা দমনে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "সরকারের নাকের ডগাতেই এসব অরাজকতা ঘটছে। জনমনে ধারণা জন্মেছে যে, সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে 'ঘৃণ্য ও ন্যাক্কারজনক' আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তিনি বলেন, "পুরো দেশ যখন ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই করছে, তখন এই অপশক্তি ফ্যাসিবাদের নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।"
দেশবাসীকে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষকে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।