বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণজনিত জটিলতা নিয়ে গত রোববার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যা তাঁর অবস্থার গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী রাতে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন, "ওনার (খালেদা জিয়া) বুকে সংক্রমণ (চেস্ট ইনফেকশন) হয়েছে। হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা তাঁর আগে থেকেই ছিল।" এই সংক্রমণ হৃদ্যন্ত্র এবং ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী।
ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, "পরবর্তী ১২ ঘণ্টা ওনার অবস্থা কী হয়, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।" তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পর দ্রুত কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে।
যদিও খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তবুও তাঁর শারীরিক জটিলতা দীর্ঘদিনের।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
হাসপাতালে ভর্তির প্রক্রিয়াটি শুরু হয় সন্ধ্যায়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি তাঁর গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা' থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। স্বাস্থ্যবিষয়ক পরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়। গত ১৫ অক্টোবরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়ে এক দিন থাকার পর বাসায় ফিরেছিলেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন।
- ৮ জানুয়ারি: উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান।
- ১৭ দিন তিনি লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।
- ২৫ জানুয়ারি: এরপর তিনি তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
- ৬ মে: উন্নত চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফেরেন।
দেশে আসার পর নিজ বাসাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তাঁর চিকিৎসা চলছে।