বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এখন আবশ্যক। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন, এই সনদ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জারি করা হোক এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করা হোক।
আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তৃতীয় দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নে দেরি হলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই আবারও রাস্তায় নেমে আসবে। তিনি ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময়কার দলগুলোর ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। পরে আন্দোলনের মাধ্যমেই তা সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিচারক খায়রুল হকের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এই রায় দেওয়ানো হয়েছিল। তাই বিচার বিভাগকে আবারও বিতর্কের মুখে না ফেলে সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জামায়াত।
জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঐকমত্য কমিশন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে চারটি বিকল্প নিয়ে কাজ করেছে, যার মধ্যে সাংবিধানিক আদেশের প্রস্তাবটি কমিশন সমর্থন করেছে। এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের ২২টি ধারা বাস্তবায়িত হতে পারে। এটি আইনিভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করার এখতিয়ার সংসদের নেই। এ ধরনের পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই গণভোটের প্রয়োজন হয়। জনগণের অভিপ্রায় দেশের সর্বোচ্চ আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়ন হওয়া উচিত এবং যারা এই আদর্শের পথে হাঁটবে না, জনগণ তাদের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এ দেশের তরুণ সমাজ ও জনগণ নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চায় এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের পক্ষেই রয়েছে।