ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রমিক লীগ নেতা গোলাম রসুল চাকরি স্থায়ীকরণের নামে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। গত ৫ই আগস্টের পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা হয়েছে। এদিকে টাকা ফেরত ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ চিনিকলের চারশ’ শ্রমিক-কর্মচারী নিয়মিত মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।
মোবরকগঞ্জ চিনিকলের বৈদ্যুতিক হেলপার পলাশ জোয়ারদার তুহিন অভিযোগ করেন, চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য তিনি তার অফিসে গিয়ে তার আস্থাভাজন পিকুর কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।
ক্রয় করণিক শরিফুজ্জামান রিংকু অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮-২০১৯ আখ মাড়াই মৌসুমে ইক্ষু ক্রয় করণিক থেকে সিডিএ পদে পদোন্নতি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২৪ জনের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মোচিক সভাপতি রসুল। আমার কাছ থেকেও দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলেন। তারা চুক্তিভিত্তিক বিনা পারিশ্রমিকে সিডিএর কাজ করেছেন। কিন্তু টাকা নিয়েও তাদের চাকরি স্থায়ী হয়নি। বয়লার ফিট পাম্পচালক সাহার আলী বলেন, তার কাছ থেকেও একইভাবে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও তার চাকরি স্থায়ী করা হয়নি।
মোচিকের সাধারণ শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বিনাভোটে তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন রসুল। স্থানীয় এমপি আনারের দাপটে চিনিকলের শ্রমিকদের উৎসবমুখর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়। সুগার মিলের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্য করে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই টাকায় যশোরের চৌগাছায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে কিনেছেন শত বিঘা জমি। কালীগঞ্জ শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে আড়াই কোটি টাকা দিয়ে চারতলা বাড়ি কিনেছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফ্ল্যাট থাইল্যান্ডে রিসোর্ট আছে এমন কথাও শোনা যায়। সুগার মিলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার পতনের পর গত ৬ই আগস্ট থেকে এক মাসের ছুটিতে ছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাকে কর্মস্থলে আর দেখা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রসুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, চাকরি স্থায়ী করাতে টাকা নেয়ার বিষয়টি তদন্তে শ্রম অধিদপ্তরের পরিদর্শক মতিয়ার রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, গোলাম রসুল ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে আবেদন করেছিলেন কিন্তু তার ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি। তবে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য টাকা লেনদেনের সঙ্গে মোচিক প্রশাসনের কেউ জড়িত নয়।