মক্কার পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে ইবাদত ও তাওয়াফে মশগুল বিশ্ব মুসলিমের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ ও আত্মিক পবিত্রতার টানে গত ৩১ মে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ১৩ জুন এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা বুকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন এক বাংলাদেশি দম্পতি। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর আবশ্যিক এই পবিত্র ইবাদতটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং তা ত্যাগ ও গভীর সাধনার এক কঠিন পরীক্ষা। মাত্র দুই সপ্তাহের এই সংক্ষিপ্ত সফর একবিংশ শতাব্দীর যান্ত্রিক জীবনের খোলস ভেঙে একজন মুমিনকে কীভাবে আমূল বদলে দিতে পারে, হজের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যেন তারই এক জীবন্ত দলিল।
হজের এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সফরে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি ছিল ১১ বছর বয়সী সন্তানকে দেশে তার দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়া। ওই হাজি বলেন, “বিদায়ের সময় মনে হচ্ছিল নিজের হৃদয়ের এক টুকরো ফেলে যাচ্ছি। কিন্তু আল্লাহর ঘরের ডাক এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ সব কিছুর ঊর্ধ্বে, তাই চোখের জল মুছেই আমরা রওনা হয়েছিলাম।”
মক্কায় পৌঁছে পবিত্র কাবা শরিফ প্রথম দেখার মুহূর্তটি ছিল পুরো সফরের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। প্রথম দর্শনেই দুচোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু আর অন্তরে অনুভূত হয় এক অপার্থিব শান্তি। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করার সময় মনে পড়েছিল মা হাজেরা (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের কথা, যিনি একাকী নির্জন মরুভূমিতে শিশুসন্তান ইসমাইল (আ.)-কে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেছিলেন। স্রষ্টার প্রতি নিখাদ বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের সেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্মরণ করে আজও বিশ্বের লাখো মুসলিম হজের সময় তাঁর সেই পথ ধরে হেঁটে যান।
মিনার তাঁবুতে অবস্থান, আরাফাতের ময়দানে কান্নার রোল আর মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন—প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ক্ষমা ও তওবার এক বাস্তব অনুশীলন। মুজদালিফার ধূলিময় রাস্তায় শুয়ে যখন পরদিন শয়তানকে পাথর মারা এবং কোরবানির জন্য মনকে প্রস্তুত করা হচ্ছিল, তখন বারবার মনে পড়ছিল মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কঠিন ত্যাগের কথা। নিজের প্রিয়তম সন্তানকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতে তিনি যেভাবে মিনার দিকে হেঁটে গিয়েছিলেন, তা স্মরণ করলে যেকোনো মুমিনের ঈমানি শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
মক্কার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মদিনায় কাটানো ২ রাত ৩ দিনের স্মৃতি ছিল আরও হৃদয়স্পর্শী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা শরিফে সালাম পেশ করার সময় আবেগ ধরে রাখা কঠিন ছিল বলে জানান তিনি। মসজিদে নববীর প্রশান্ত পরিবেশ, পবিত্র নগরীর হাওয়া আর মদিনার হৃদয়জুড়ানো আজানের ধ্বনি যেন আত্মার গভীরকে স্পর্শ করে যায়।
কোরআনের বাণী অনুযায়ী হজের সবচেয়ে বড় পাথেয় হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই সফর থেকে ফিরে আসার পর ওই হাজির অকপট স্বীকারোক্তি, “এই হজ ছিল ছোট্ট সময়ের মধ্যে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আত্মিক অর্জন। আমরা ফিরে এসেছি এক নতুন ‘আমিত্ব’ নিয়ে—যা আরও বেশি আল্লাহমুখী, আরও বেশি কৃতজ্ঞ এবং অন্তরে বিশুদ্ধতার ছোঁয়া জড়ানো।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
