স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করা না গেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের হাব হয়ে উঠতে পারে। কারণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা অনেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। শুক্রবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীর ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা বলয় পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলেছি যাতে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। না হলে এসব ক্যাম্পে অস্ত্রের ঝনঝনানি হতে পারে। যার কিছু আলামত দেখতে পারছি। কিছু মানুষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। তাদের শনাক্ত করাই এখন মূল কাজ। তার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে এপিবিএন, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাতব একসঙ্গে টহল দেবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। নিয়মিত ক্যাম্পে টহল চলবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও সহায়তা করবে।
মিয়ানমারের কথা ও কাজে মিল নেই উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মিয়ানমার একটি অস্থিতিশীল দেশ। ওখানে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা। বিভিন্ন সময় দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে নানা চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলেও মিয়ানমারের কারণে তার অগ্রগতি হয়নি। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি টেকনাফ গিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আর কাউকে আসতে দেওয়া হবে না; সে রোহিঙ্গা হোক বা অন্য কেউ– এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাইরে আসছে জানিয়ে মন্ত্রী নষ্ট হওয়া কাঁটাতারের বেড়া দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
ক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এপিবিএন-প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।