খলিল গোস্ত বিতান
রাজধানীর শাহজাহানপুরে মাংস বিক্রেতা খলিল ইতিমধ্যে সবার কাছে কম দামে মাংস বিক্রির কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কুড়িয়েছেন ক্রেতাদের আস্থা। তার দোকান থেকে কম দামে মাংস কিনতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন ক্রেতারা। দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা হলে জানা গেছে, খলিল গোস্ত বিতানে দিনে ৩০-৩৫টি গরু জবাই হচ্ছে। কেউ ২ কেজি, কেউ ৫ কেজি বা ১০ কেজি মাংস চাইলেও নিতে পারেন, আবার কেউ এক কেজি মাংসও নিতে পারেন। সাধারণ মানুষের জন্য এমন এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে তারা সাধ্যের মধ্যে মাংস কিনে খেতে পারেন। এই দোকানে অন্য সময়ও ভিড় লেগে থাকে। বর্তমানে রমজান মাস উপলক্ষে অনেক বেশি ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মাংস কিনতে আসছেন এখানে। তবে মাংসে অতিরিক্ত হাড় ও চর্বি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।
শনিবার দুপুরে খলিল গোস্ত বিতানে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানে ব্যানার টানিয়ে ৫৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। মাংস কিনতে দীর্ঘ লাইন ধরেছেন ক্রেতারা। দোকানের দুই পাশে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস কিনছেন লোকজন। দোকানের কর্মচারীরা একটার পর একটা গরু এনে জবাই করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। এসব কিছুর দেখাশোনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা।

খলিলের ভাতিজা মনজু ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, সাড়ে তিন মাস আগে এই দোকানে মাংস কেজিতে ৭০০ টাকার বেশি বিক্রি হতো। তবে দুই মাস ধরে ছাড়ে ৫৯৫ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি হচ্ছে ।
পাশেই বিক্রি হচ্ছে খাসির মাংস, তবে সেখানে ভিড় কম। বনশ্রী থেকে মাংস কিনতে এসেছেন মাসুম। তিনি বলেন, মাংস তো ৭৮০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়। এখানে দাম কম তাই কিনতে এসেছি। তবে লাইনে থাকতে হয়েছে ১ ঘণ্টারও বেশি সময়। মাংস ফ্রেশ, অনেকেই বলেছিল ফ্রিজের মাংস কিন্তু না। সরাসরি জবাই করেই মাংস বিক্রি হচ্ছে। আমি ৫ কেজি মাংস কিনেছি। এর মধ্যে দেড় কেজির বেশি হাড় এবং চর্বি বেশি মেশানো মাংস পেয়েছি বলে জানান তিনি।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা নাজমা ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে বলেন, এখানে মাংস কম দামে বিক্রি হচ্ছে তাই আসলাম। লাইনে দাঁড়িয়েছি, দেখি কতক্ষণ লাগে। মাংসও ভালো দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

খলিলের ভাতিজা মনজু বলেন, আমাদের দোকানে এখন ছাড় চলছে। কয়দিন চলবে তার নিশ্চয়তা নেই। ফ্রেশ মাংস বিক্রি করছি আমরা।
আগে তো ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতেন এখন কম দামে বিক্রি করায় লোকসান হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে তিনি জানান, লোকসান হবে কেন? লোকসান হলে বিক্রি করব না। রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। রহমতের মাসে মানুষ যেন কম দামে মাংস খেতে পারে।

বাসাবো সবুজবাগ থেকে আসা সুমন জানান, গণমাধ্যমে জেনেছি কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে তাই এখানে মাংস নিতে এসেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে আছি দেড় ঘণ্টা ধরে।
এ বিষয়ে কথা বলতে খলিল গোস্ত বিতানের মালিক খলিলকে দোকানে না পাওয়া যায়নি। তার ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোনেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খলিল গোস্ত বিতানের মালিক খলিল ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার ৩০টি গরু জবাই হয়েছে। এ দিন ৬১ লাখ টাকার মাংস বিক্রি করেছি। শুক্রবার এক কোটি টাকার বেশি মাংস বিক্রি হয়েছে। এতে আমার ১৭ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
আগে তো ৭৫০ টাকা বিক্রি করতেন এখন কম দামে বিক্রি করায় লস হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। রহমতের মাসে মানুষ যেন কম দামে মাংস খেতে পারে। আমি ২০-২৫ রোজা পর্যন্ত এভাবে মাংস বিক্রি করব লোকসান হলেও। কারণ সাধারণ মানুষ কম দামে যেন মাংস কিনে খেতে পারে এটা আমার ইচ্ছা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
