টাঙ্গাইল শাড়িসহ তিন পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি দুই পণ্য হলো গোপালগঞ্জের রসগোল্লা ও নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা।
বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) সূত্র। এ প্রতিষ্ঠানই জিআইয়ের অনুমোদন দেয়।
এখন থেকে দুই মাস এই গেজেট ডিপিডিটির ওয়েবসাইটে রাখা হবে। কারও যদি কোনো অভিযোগ না থাকে, তবে দুই মাস পর এসব পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
ভারতের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলার টাঙ্গাইল শাড়ি’ বা ‘টাঙ্গাইল শাড়ি অব বেঙ্গল’ নামে একটি শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। টাঙ্গাইল শাড়ির ব্যবসায়ীসহ জিআই বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অধিকার কর্মীরা বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য। ভারতে ‘টাঙ্গাইল’ নামে কোনো এলাকা নেই। তাই ভারতের উদ্যোগ অন্যায্য।
ভারতে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়ার পরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নড়েচড়ে বসে। এরপর দ্রুততার সঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাড়ির জিআইয়ের আবেদন হয় গত মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি)। আর তা গ্রহণ করে সেদিনই অনুমোদন গেজেটের জন্য বিজি প্রেসে পাঠায় ডিপিডিটি।
আজ দুপুরে ডিপিডিটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) আলেয়া খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ি, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা ও নরসিংদীর অমৃত সাগর কলার জিআইয়ের আবেদন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এই তিন পণ্য এখন জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলেই ধরা যায়। তবে দুই মাস পর আমরা জিআইয়ের সার্টিফিকেট দেব।’
আজ ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’ নামে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসনের আবেদন জার্নাল আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে টাঙ্গাইল শাড়ির বিশেষত্ব হিসেবে বলা হয়েছে, এ শাড়ি সম্পূর্ণ হাতে বুনন করা হয়। তবে বর্তমানে মেশিন তাঁতেও বুনন করা হয়ে থাকে। যমুনা, ধলেশ্বরী নদীর পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু শাড়ি বোনার উপযোগী।
কোনো দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলে সেটিকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জিআই স্বীকৃতি খুব তাৎপর্যপূর্ণ।