ফাইল ফটো
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন বিষয়ে জানার আগ্রহ রয়েছে অনেকের। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই স্কিম সম্পর্কে জানাতে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ প্রচারণার নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অনেকেই জানতে চান সর্বজনীন পেনশন স্কিমে চাঁদার টাকা কীভাবে জমা নেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ব্যাংক, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে চাঁদার টাকা জমা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদার টাকা নগদ জমা দেওয়া যাবে না।
চাঁদাদাতা তাঁর পেনশন আইডি দিয়ে www.upension.gov.bd-এর আইটি সিস্টেমে প্রবেশ করে যে কোনো সময় সহজেই বছর শেষে মুনাফাসহ জমাকৃত টাকার পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্রের হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে মাসিক টাকা জমা দিলেই হবে। পরিবারের সবাই পেশা ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রযোজ্য পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করতে পারবেন।
বর্তমানে সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকের সব শাখা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্মুখ অফিস হিসেবে কাজ করছে। যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে গিয়ে পেনশন স্কিমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং টাকা জমা দিতে পারবেন। তা ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
কেউ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা জমা করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া চাঁদা দেওয়া যাবে। এক মাস অতিবাহিত হলে পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ১ শতাংশ হারে বিলম্ব ফি জমা প্রদান সাপেক্ষে হিসাবটি সচল রাখা যাবে। কোনো চাঁদাদাতা পরপর তিন কিস্তি চাঁদা জমাদানে ব্যর্থ হলে পেনশন হিসাবটি স্থগিত হবে এবং সমুদয় বকেয়া কিস্তি বিলম্ব ফিসহ জমা না করা পর্যন্ত হিসাবটি সচল হবে না।
চাঁদাদাতারা মাসের নাম উল্লেখ করে যে কোনো পরিমাণ চাঁদার টাকা অগ্রিম হিসাবে জমা করতে পারবেন। চাঁদাদাতা চাইলে মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতেও চাঁদা পরিশোধ করতে পারবেন। চাঁদার টাকা জমা হলে চাঁদাদাতার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে তাঁকে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা দেওয়া না হলে বিলম্ব ফিসহ চাঁদা জমাদানের জন্য চাঁদাদাতার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠানো হবে।
পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীদের জমাকৃত টাকা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। বিনিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী জমাকৃত টাকা কম ঝুঁকিপূর্ণ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা হারাহারি হারে পুরোটাই জমাকারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণকারীর বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রদান করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মাসিক পেনশনের টাকা দেওয়া হবে।
পেনশনের পরিবর্তে জমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থ একসঙ্গে উত্তোলন করা যাবে না। শুধু আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে। তবে চাঁদাদাতা তাঁর জমাকৃত টাকার ৫০ শতাংশ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। এ ঋণ সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। কিস্তিতে পরিশোধিত টাকা চাঁদাদাতার পেনশন হিসাবেই জমা হবে। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রদত্ত চাঁদার কর রেয়াত পাওয়া যাবে। মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়করমুক্ত।
চাঁদাদাতা পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হওয়ার আগে চাঁদা দিতে অপারগ হলে এবং তিনি জীবিত থাকলে পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হওয়ার পর জমাকৃত টাকার ওপর মাসিক পেনশন পাবেন। পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে সে ক্ষেত্রে নমিনি সমুদয় অর্থ এককালীন ফেরত পাবেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় পেনশন স্কিমে জমাকৃত অর্থের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করছে। দেশের জনগণের গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে নির্ভশীলতার হার বৃদ্ধি পাবে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ পাস করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আইনের আলোকে গঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
বিষয় : সর্বজনীন পেনশন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
