রাজধানীর বারিধারায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ফুটপাতে বসে থাকা এক নির্মাণশ্রমিককে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ও 'ও' লেভেলের ছাত্র ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাত্র দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন মঞ্জুর করেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি থাকা কিশোরটির ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং কিডনি-যকৃতের জটিলতাসহ গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত জনবল সংকট এবং কিশোরটির শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টিকেও জামিনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর আটকাদেশের বিধান থাকলেও, বন্দিশালায় কিশোরটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিবেদনে তার তীব্র জ্বর, বমি, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, ট্রমাটিক হেড ইনজুরি এবং শ্রবণশক্তি হারানোর আশঙ্কার তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও বিলিরুবিনের মাত্রা বিপদসীমায় পৌঁছানোয় তার উন্নত চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়েছিল।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ওই কিশোরের চালিত প্রাইভেট কারের নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলায়। ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা চালককে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করে।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, দুর্ঘটনার দিন উত্তেজিত জনতা ওই কিশোরের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। তাছাড়া আটক অবস্থায় তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের জোরালো বিরোধিতা করলেও বিচারক নথিপত্র ও সার্বিক মানবিক দিক বিবেচনা করে তার বাবা ও এক আইনজীবীর জিম্মায় দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।