× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নিখোঁজ মেয়ের মৃত্যুর খবর মর্গে, শেষবার মুখটাও দেখতে পেলেন না মা-বাবা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩০ পিএম । আপডেটঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৩১ পিএম

নিহত ১১ বছরের শিশু মুক্তা আক্তার। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১ বছরের শিশু মুক্তা আক্তারের মরদেহ মর্গে পৌঁছানোর মাত্র একদিনের মধ্যেই দাফন করায় ক্ষোভ ও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পরদিন ভোরে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ডের কাছে ট্রাকচাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটির। নিয়ম ভেঙে দ্রুত মরদেহ হস্তান্তর এবং ঘাতক ট্রাকটি শনাক্তে পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বান্ধবীর কাছ থেকে পাওনা টাকা আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি মুক্তা। নিখোঁজের দুই দিন পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের ছবি দেখে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন মা মোসা. নাজমা। কিন্তু মর্গে পৌঁছানোর আগেই অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হওয়ায় মেয়ের মুখটি শেষবারের মতো দেখার সৌভাগ্যটুকুও হয়নি শোকার্ত মায়ের।

মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন করে কেন দ্রুত দাফন করা হলো—এমন প্রশ্ন তুলে মা মোসা. নাজমা বলেন, "আমার সন্তানের মুখটা তারা শেষবারের মতোও দেখতে দিল না। আমি তো জানতামই না, আমার মেয়েকে এভাবে দাফন করে দেওয়া হবে। অন্তত একবার মেয়ের মুখটা দেখতে পারতাম!"

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গের ইনচার্জ মো. জীবন হাসান দাবি করেন, মর্গের বেশ কয়েকটি ফ্রিজ নষ্ট থাকায় এবং কোনো দাবিদার না থাকায় মরদেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় তা আঞ্জুমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। অন্যদিকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. কামরুল হাসান জানান, দাফনের পর পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে তাঁদের কবরের ছবি দেখানো হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাতক ট্রাকটি শনাক্ত বা চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনাস্থলের ছবি দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তার বাবা মো. রাজীব ও মা নাজমা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিমকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ছোট্ট মুক্তার এমন আকস্মিক মৃত্যু এবং অব্যবস্থাপনার এই ঘটনায় বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.