ক্রসফায়ারের প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত
সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে এক ‘বিপজ্জনক বার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিয়ে তাঁর দেওয়া অবমাননাকর মন্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।
সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ‘কমিউনিটি ইসলামিক’ সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিতর্কিত এই মন্তব্য করেন আইজিপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে ‘ফ্যাসিস্ট’ এবং নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলা হয়—এমন দাবি করে তিনি বলেন, "যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।" এ সময় তিনি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মাদকের টাকা না পেয়ে সাংবাদিকেরা পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ তোলেন।
পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্যকে ‘পেশাগত দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "কোনো সরকারের অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না।" সংস্থাটি আইজিপির প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা, বক্তব্য প্রত্যাহার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অধিকার এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রও কাউকে হত্যার অনুমতি দিতে পারে না। জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ একাধিক রাজনৈতিক দল আইজিপির বক্তব্যকে চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও সংবিধানের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এদিকে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তোলা ঢালাও অভিযোগকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উল্লেখ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার এই মন্তব্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারবহির্ভূত বলপ্রয়োগের পুরোনো স্মৃতি উসকে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজ মনে করছে, গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার থেকে এ বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
