সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা শাহেদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নিহত শাহেদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্বামী বিদেশে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ায় তীব্র আশঙ্কা ও ভয় কাজ করছিল তাঁর মনে। যাওয়ার আগে স্বামীকে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও তিনি কাজে যোগ দিতে ফিরে যান। স্বামীর সঙ্গে শেষ স্মৃতির কথা স্মরণ করে কাঁদতে কাঁদতে কহিনুর বলেন, "আমি কাঁদছিলাম। সে আমাকে বলেছিল, 'কেঁদো না। এক-দেড় ঘণ্টা পর বাসায় গিয়ে তোমাকে ফোন দেব।' কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি।"
পরিবার ও কনস্যুলেট সূত্রে জানা যায়, শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশে এসেছিলেন তিনি। এক মাস তিন দিন পরিবার ও দুই সন্তান—জিহাদের বয়স পাঁচ এবং কাউসারের বয়স ১০ বছর—এর সঙ্গে সময় কাটিয়ে গত অক্টোবরের শুরুতে পুনরায় কর্মস্থলে ফেরেন। ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতিকালে হুতিদের ভয়াবহ হামলায় তিনি প্রাণ হারান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সংঘাতের জেরে নিহত মোট ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে শাহেদ হলেন ১১তম। অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে এবং অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে ২৬ বছর বয়সী কহিনুরের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারটি প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষ দৃষ্টি কামনা করেছে।