× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

প্রটোকল ভুলে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ, কী বলে সরকারি শিষ্টাচার?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৪ পিএম । আপডেটঃ ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনে প্রটোকল ভেঙে অন্য হাত এগিয়ে দেওয়ায় প্রত্যাহার হন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রাচার ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের জেরে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতার সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার অনভিপ্রেত ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহী সফর শেষে বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রাক্কালে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে প্রটোকল ভেঙে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে অন্য হাত দিয়ে পেছন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছিয়ে যান এবং তাঁকে শৃঙ্খলার সঙ্গে নিজ লাইনে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। এই দৃশ্য সংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হলে প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয় এবং ঘটনার দিনই তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে ওএসডি করা হয়।

শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এর আগে বাগেরহাটে একটি সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালে মুঠোফোন বেজে ওঠা ও অসতর্কতার কারণে জেলার সিভিল সার্জনের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একের পর এক এমন ঘটনায় মাঠপ্রশাসনে নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রটোকল ও মৌলিক শিষ্টাচারজ্ঞান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার অবনতির বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর ও সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, "এক সময় সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের রাষ্ট্রাচার, শিষ্টাচার, পরিমিতিবোধ, শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা, লেখাপড়ার মান ও পেশাদারত্বের মান ছিল নজরকাড়া সেরা। কিন্তু এখন সবকিছুই তলানিতে। এখন দৃষ্টিকটুভাবে চাটুকারিতা ও চামচাসুলভ কথা বলা হয়।" ১৯৮৩ সালের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের স্মৃতির উল্লেখ করে তিনি জানান, জুনিয়র কর্মকর্তা হয়ে কখনো নিজে থেকে সিনিয়রের দিকে হাত বাড়াতে নেই; এটি কেবল পদমর্যাদার লড়াই নয়, বরং সুশৃঙ্খল রীতিনীতি ও সংযমের বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিভিল সার্ভিসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও আইন ও প্রশাসন কোর্সে শিষ্টাচার, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং প্রটোকলের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে শেখানো হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে এর সঠিক চর্চার অভাব রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, তোষামোদ সংস্কৃতি এবং যোগ্যতার পরিবর্তে সুবিধাবাদী পদায়নের কারণে মাঠপ্রশাসনে কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত শালীনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, সরকারি কর্মকর্তারা কেবল নিজেদের নয়, বরং পুরো রাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্রের ভাবমূর্তির প্রতিনিধিত্ব করেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে নেওয়া এই তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রশাসনের অন্যান্য অসাধু ও চাটুকার কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে। তবে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং মেধার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সিভিল সার্ভিসের ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.