× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

স্বৈরাচার ফেরানোর পথ খোলা জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ এএম । আপডেটঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ এএম

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিরোধী দলের প্রতি গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান স্পষ্ট করেছেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গণতন্ত্রের মূল চেতনা ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে পুরোপুরি গঠনমূলক। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার পুরোনো ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।" এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের বিপুল ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং অন্যান্য দলগুলো বিরোধী দলের আসনে দায়িত্ব পালন করছে; সুতরাং সংসদে আলোচনা ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন। ৯০ ফুট উঁচু ও প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং ২৩ একর আয়তনের আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান ঘুরে দেখেন।

বিরোধী দলের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত ছিল। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজ অনেকের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছে, অথচ শহীদদের স্মরণ করার জাতীয় অনুষ্ঠানে তাঁদের অনেকের উপস্থিতি না থাকা দুঃখজনক।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি আবাসিক এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি, অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ক্ষতি না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করেই দেশের রূপরেখা তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ। পরিশেষে, শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে দেশের তরুণ সমাজ এবং রাজনৈতিক অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.