সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর এক মসজিদে ‘অনৈতিক ও অশালীন’ কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সে দেশের সরকার। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই সিদ্ধান্ত আগে থেকে বাংলাদেশ মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। মক্কার একটি মসজিদে অশালীন কাজের অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে আদালত তাঁদের শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চতর আদালতে এই রায় বহাল থাকলে রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়।
সৌদি আরব ও বাংলাদেশ কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ‘ভিয়েনা সনদ’-এর অন্তর্ভুক্ত হলেও এ ক্ষেত্রে আটককৃতদের বিষয়ে কনস্যুলেটকে না জানানো নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশের কনস্যুলেটকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক সূত্র জানায়, "মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তথ্যের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।"
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার গতি অস্বাভাবিক ঠেকছে। এত বড় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরও কেন কোনো আইনি সহায়তা চাওয়া হয়নি বা ঢাকার মিশনে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরণ ও সাজা কার্যকরের পেছনে অন্য কোনো প্রেক্ষাপট রয়েছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।