× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪২ পিএম । আপডেটঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৫ পিএম

রাজধানীর একটি হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে নতুন ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। চুক্তির আওতায় চারটি দূরপাল্লার 'এ৩৫০-৯০০' এবং ছয়টি আঞ্চলিক রুটের 'এ৩২১নিও' উড়োজাহাজ কেনা হবে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার একটি হোটেলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক আয়োজনে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের অন্তর্ভূক্তিতে বহর আধুনিকায়নে নতুন এক ধাপে প্রবেশ করল দেশের এভিয়েশন খাত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও দেশীয় যাত্রী পরিবহনে সক্ষমতা বাড়াতে বহর পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার। সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী ২০৩৩ সাল থেকে নতুন এয়ারবাস সরবরাহ শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত বহরে যুক্ত হতে থাকবে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে মোট কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সে সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশে যাত্রী চাহিদা বাড়লেও বিমান মাত্র ২০ শতাংশ যাত্রী বহন করতে সক্ষম হচ্ছে। বিমানের বহর বড় ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে অন্তত ৫০ শতাংশ বাংলাদেশি যাত্রীকে নিজস্ব বিমানে পরিবহনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, "সঠিক নেটওয়ার্কের জন্য সঠিক বহর, সঠিক অবকাঠামো ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। আমরা বিমানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইনস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।" এ সময় মন্ত্রী যৌথ উদ্যোগে দেশে এভিয়েশন মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সেন্টার স্থাপনে ইউরোপীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিশ্ব ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপট উড়িয়ে দিয়ে জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রয়োজনে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়নের বন্ধুদের খুশি করতে নয়, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন মেটাতেই এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশ কাউকে খুশি করার জন্য চুক্তি করে না, প্রয়োজনের ভিত্তিতে করে।" ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা উদ্যোগটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি বহর আধুনিকায়নের পাশাপাশি সামগ্রিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও কৌশলগত সহায়তার পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।

উল্লেখ্য, নতুন এয়ারবাস কেনার চুক্তির আগে চলতি বছরই মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে দুই দফায় ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের সিংহভাগই মেয়াদ উত্তীর্ণের কাছাকাছি থাকায় আগামী ১০ থেকে ১২ বছরে নতুন মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহর ৫০টি ছাড়িয়ে যাবে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরই এয়ারবাস যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.