ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে গৃহস্থালি কাজের সবচেয়ে ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা আগের তুলনায় ২৫২ টাকা বেশি। আজ রোববার বিইআরসির ঘোষিত এই নতুন দর সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে প্রতি কেজি এলপিজির সমন্বিত দর ১৩২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। এর ফলে যানবাহনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দামও ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
“আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যসূচক (সৌদি সিপি) এবং ডলারের আমদানিমূল্য সমন্বয়ের ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে,” আজ সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে গত জুনে ও জুলাইয়ে পর পর দুই মাস দেশে এলপিজির দাম কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপের কারণে চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিটির মূল্যে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয়। বিইআরসি প্রতি মাসে নতুন দর নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে সেটির সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় ভোক্তা ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোদ সরকারি দর ঘোষণার আগেই ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল। পাইপলাইনের গ্যাসসংকটের কারণে যে বিপুল সংখ্যক পরিবার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, অতিরিক্ত দামে কেনাকাটা তাদের ওপর তীব্র আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
মূলত ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজার ও সৌদি সিপির ভিত্তিমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে নিয়মিত এলপিজির দর নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে তদারকি জোরদার ও পাইকারি-খুচরা পর্যায়ে সরকারি দর কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।