বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই চুক্তিটি ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা। নতুন এই দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উন্নত প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময় এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় এ পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলের এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, "এই চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় শক্তি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কৌশলে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে মার্কিন সহায়তা দেশের পারমাণবিক অবকাঠামোকে বিশ্বমানের নিরাপত্তাবেষ্টনী প্রদান করবে।"
বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শক্তির চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে এই চুক্তি পারমাণবিক খাতের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। চুক্তির ধারা অনুযায়ী, দ্রুতই দুই দেশের কারিগরি প্রতিনিধিদল যৌথ রূপরেখা ও বৈজ্ঞানিক বিনিময় বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবে।