গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পাঞ্চল টঙ্গী, বোর্ড বাজার, গাজীপুর সদর, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর ও শ্রীপুর এলাকার বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রমিকরা কারখানায় আসছেন ঠিকই, কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে কাজ করতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টঙ্গী বিসিক এলাকার অধিকাংশ পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক বন্ধ করে নিরাপত্তাকর্মীরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
এবি ফ্যাশনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আকবর আলী বলেন, ‘গত কয়েকদিন যাবৎ কারখানাটি দিনে বন্ধ থাকে। তবে, রাত ১০টার পর থেকে সব কার্যক্রম চালু হয়। দিনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় এই অবস্থা হয়েছে।’
এবি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বদরুল হাসান তাসলিম বলেন, ‘মাস ঘুরতেই শ্রমিকের বেতন-ভাতা গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ গ্যাস সংকটে ফ্যাক্টরি গত চার দিন বন্ধ থাকার পর বিকল্প হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত খরচে সিএসজি ও ডিজেলের মাধ্যমে বয়লার এবং জেনারেটর চালু করা হয়েছে। গত এক-দেড় মাস ধরেই গ্যাস সংকটে ফ্যাক্টরি চলেছে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে। যেখানে বয়লার চালাতে প্রয়োজন ১৯ হাজার ৯৬০ ঘনফুট এবং জেনারেটর চালাতে লাগে ৯ হাজার ঘনফুট গ্যাস; সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক থেকে দেড় বা দুই পিএসআই। আবার অনেক সময় জিরোতে নেমে আসে।’
গাজীপুর সদর বাসন এলাকার রয়েল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রায়হান আহমেদ হৃদয় বলেন, ফ্যাক্টরিতে চার হাজারের অধিক শ্রমিক কাজ করেন। গ্যাসের এই সংকট গত এক থেকে দেড় মাস ধরে। আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনের পর হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু না, গ্যাসের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এদিকে শিল্পনগরীর টঙ্গী, বোর্ড বাজার, গাছা, বাসন, গাজীপুর সদর, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও সফিপুর এলাকার এবিএম ফ্যাশন লিমিটেডের এজিএম এমডি মিলন, কেয়া স্পিনিং নিটিং অ্যান্ড ড্রাইংয়ের জিএম (অ্যাডমিন) পরিমল, ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের ম্যানেজার (এইচআর) রেজা, গ্রুপের এজিএম ইউছুফসহ ওই এলাকার রিপন জিন্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেড, জিন্নাত অ্যাপারেলস (ডিবিএল), এমএম নিট অ্যাপারেলস লিমিটেড, নোভেলি গার্মেন্টস লিমিটেড, তুসুকা ডেনিম লিমিটেড, কটন ক্লাব (মণ্ডল গ্রুপ) লিমিটেড, ফ্যাশন পয়েন্ট লিমিটেড, মেডিট্রাক্স সোয়েটার লিমিটেড, সফিপুর পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার ফারিস্ট, ইকো, এপেক্স, ডালাস, রহিম টেক্সটাইল ও কোনাবাড়ি বিসিক এলাকার বাজন অ্যাপারেলস, তমিজউদ্দিন, মাসরিকসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে গ্যাসের এমন তীব্র সংকটের চিত্র পাওয়া গেছে।