চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মর্যাদাপূর্ণ আসনে পুনর্বার বসলো বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মঙ্গলবার সংস্থাটির ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় কোনো বাংলাদেশি হিসেবে বৈশ্বিক এই ফোরামের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সূচনা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার ও সংকট নিরসনে ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে নিজ কৌশলগত রূপরেখা প্রকাশ করেন বিশ্বখ্যাত এই সাবেক পেশাদার কূটনীতিক।
গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের দীর্ঘ এক দশকের সুসংগঠিত প্রচারণাকে পেছনে ফেলে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেন খলিলুর রহমান। মাত্র চার মাসের স্বল্প সময়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশের এ জয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বড় ধরনের নীতিগত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নবাগত সভাপতির সুদীর্ঘ কর্মজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বিভিন্ন পদে। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর টানা ২৫ বছর বিশ্বসংস্থাটির একাধিক জ্যেষ্ঠ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বনেতাদের সাথে যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন সভাপতির ওপর বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার যে গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।