কম্বোডিয়া থেকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে নিজের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করছেন মো. শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
কম্পিউটারে উচ্চবেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে ভয়াবহ মানব পাচার ও অনলাইন প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন ঢাকার মিরপুরের অগ্নিনির্বাপণসামগ্রী ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম (৩০)। দেশটিতে পৌঁছানোর পরই পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে একটি সুরক্ষিত 'স্ক্যাম সেন্টারে' (প্রতারণাকেন্দ্র) ১৭ দিন বন্দি রাখা হয়। অনৈতিক অনলাইন চালিয়াতির কাজে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, বৈদ্যুতিক শক প্রদান এবং পর্যাপ্ত খাবার না দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে স্বজনরা ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ পরিশোধ করার পর অবশেষে গত ১৮ নভেম্বর শূন্য হাতে দেশে ফেরেন নিঃস্ব এই যুবক।
শফিকুলের ভাষ্যমতে, ফেসবুকের মাধ্যমে মো. মাসুদ মিয়া নামের এক দালালের সঙ্গে পরিচয়ের পর সাড়ে চার লাখ টাকা চুক্তিতে এবং বিএমইটির প্রশিক্ষণ ও ছাড়পত্র নিয়ে গত বছরের ২৬ অক্টোবর তিনি কম্বোডিয়া যান। নমপেন বিমানবন্দরে নামার পর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা বদলে ভ্রমণ ভিসা করিয়ে তাকে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি কারাগারে রূপ নেওয়া পাহারাযুক্ত কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। শফিকুল ইসলাম বলেন, “চীনা মালিকানাধীন ও পাকিস্তানি পরিচালকদের এই কেন্দ্রে মার্কিন ও ভারতীয় নাগরিকদের প্রতারিত করার জন্য স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে দেওয়া হয়। আমি অনৈতিক এই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দি করা হয় এবং প্রতিনিয়ত ইলেকট্রিক শক ও মারধর করা হয়।”
শফিকুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উক্ত স্ক্যাম সেন্টারে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র 'কলিং' ও 'চ্যাটিং' দুটি বিভাগের মাধ্যমে ভারতীয়দের আধার কার্ড হ্যাক এবং কৃত্রিম কণ্ঠস্বরের সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। দুই দিন কাজের পর প্রতিবাদ জানালে তাঁকে বিক্রির ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয় এবং ১৬ নভেম্বর এক নির্জন এলাকায় ফেলে আসা হয়। পরবর্তীতে কম্বোডিয়াভিত্তিক বাংলাদেশ কমিউনিটির সহায়তায় স্বজনদের পাঠানো ৩ হাজার ২০০ ডলারের বিনিময়ে তাকে উদ্ধার করে নমপেন হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগী শফিকুল জানান, দেশে ফিরে দালাল মাসুদের কার্যালয় বন্ধ পান এবং পরবর্তীতে অভিযুক্তের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বর্তমানে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও সাইবার অপরাধ চক্রের সাথে দেশীয় দালাল চক্রের এই মারাত্মক মেলবন্ধন রোধে কঠোর নজরদারি ও ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
