যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে দিনটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিকেলে পলাশীর মোড় থেকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত ঢল নামে, যা পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
হিন্দু পুরাণমতে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে অন্যায় ও অত্যাচার রুখে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মথুরায় কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এই ধর্মীয় চেতনা ধারণ করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল আটটায় চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশনের পরিচালনায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিগত নির্বাচনে আপনারা অসুর শক্তির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।”
উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে প্রদীপ জ্বালিয়ে শুভ সূচনা করা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা সময়ের দৃশ্যপট যেমন—রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি, কংসের কারাগার ও ঐতিহাসিক রথের সুসজ্জিত সাজ দেখা যায়। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত পিকআপ, ঘোড়ার গাড়ি ও হাতি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও গুলিস্তান হয়ে বাহাদূর শাহ পার্কে পৌঁছায়।
সারা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনেও একই আবহে আরতি ও কীর্তনের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর দিনটি উদযাপন করা হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে এই জাতীয় উৎসবটি দেশে ধর্মীয় সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আয়োজকেরা।