উভয় দেশের সুবিধাজনক সময় ও পারস্পরিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন এবং এই আলোচনার ধারা নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া কোনো কূটনৈতিক চাপের মুখে নয়, বরং দেশের ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন খাতের বাণিজ্যিক চাহিদা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও পরিষ্কার করেন তিনি।
দিল্লিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রস্তাবিত সেমিনার বাতিল করাকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো সন্ত্রাসী যাতে এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে দুই দেশের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “কোনো তারিখ ঠিক না করা মানেই তো আর আলোচনা থমকে যাওয়া নয়। উপযুক্ত সময়ে এবং দুই দেশের স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার মধ্যে ৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাদের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং আমরা তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলাম।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “কোনো চাপের মুখে নয়, এয়ারক্রাফট ফ্লিটের সক্ষমতা বাড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে দেশের বিমান খাতের জন্য ৭০ থেকে ৮০টি বা তারও বেশি উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। বৈদেশিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রেখে আমরা ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ধরে রেখে বাণিজ্য বাড়াচ্ছি।”
তিনি জানান, এভিয়েশন হাব তৈরি ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।