দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিললে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থায়নের ঘাটতির কারণে তা ধাপে ধাপে বা ভেঙে ভেঙে পরিশোধ করবে সরকার।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্নে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে কমিশন, যেখানে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল। তবে পরবর্তীকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দুই অর্থবছরে তা কার্যকরের সুপারিশ জমা দেয়।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য ব্যয়িত ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। চলতি বাজেটে ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও রাজস্ব ঘাটতি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে একবারে পুরো অর্থ ছাড় করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটা আমরা একসঙ্গে দিতে পারছি না। বিশাল আমদানির কারণে রাজস্ব স্পেসটা অনেক কমে গেছে। ইচ্ছে থাকলেও তো একসঙ্গে দিতে পারছি না, তবে এটা নিয়ে কাজ করছি এবং হিসাব-কিতাব চলছে।”
নতুন এই কাঠামো অনুমোদন ও জারি হলে বিগত ১১ বছরে জমে থাকা মূল্যস্ফীতিজনিত জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আর্থিক স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হলেও, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে চোখ রাখছেন অর্থনীতিবিদেরা।