× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সারের 'পর্যাপ্ত' মজুদের দাবির মুখে মাঠে হাহাকার

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ এএম । আপডেটঃ ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ এএম

আমন মৌসুমে ফলন ভালো রাখতে সবুজ ধানক্ষেতে পিঠে স্প্রেয়ার নিয়ে তরল কীটনাশক ও তরল সার ছিটাচ্ছেন এক কৃষক। ফাইল ছবি

আমন মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা, যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ ও গুদাম লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটছে। সরকার সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে দাবি করলেও, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ—সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় সার। সরকারি হিসাব ও বাস্তব মাঠ চিত্র—এ দুইয়ের পর পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আমন চাষে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সারের প্রকৃত সরবরাহ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। ডিলাররা সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করলেও, কৃষকদের মতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলাবাজারে চড়া দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। ঝিনাইদহের কৃষক মোহাম্মদ জনি বলেন, "প্রয়োজন মিটাতে বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। খোলা দোকানে সার মেলে ঠিকই, কিন্তু তারা বস্তাপ্রতি দু-তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত বেশি দাবি করে।"

অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, কৃষকদের চাহিদার তুলনায় বিএডিসি ও বিসিআইসি থেকে তারা অনেক কম সার পাচ্ছেন। রাজশাহীর এক ডিলার জানান, চাহিদা বাড়লেও তাদের বরাদ্দ মারাত্মকভাবে কমে গেছে; বিশেষ করে টিএসপি, ডিএপি ও পটাশ সারের টানাপোড়েন চরম রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের চাহিদা থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৮৩ শতাংশ সারই আমদানি করতে হয়।

তবে এ অস্থিরতার মধ্যেও সারের ঘাটতির কথা সরাসরি নাকচ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, "বর্তমানে দেশে ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সারের সুনির্দিষ্ট মজুদ রয়েছে এবং আরও ৩.৬৫ লাখ টনসহ বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। সরকার কৃষক ও জনগণের স্বার্থে বিতরণব্যবস্থায় কিছু সংস্কার আনছে, যার কারণে সাময়িক প্রভাব দেখা গেছে।" তিনি জানান, অসাধু ডিলারদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়গুলো তদারকিতে তিন সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি কাজ করছে।

সরকারের পর্যাপ্ত মজুদের দাবিকে অবশ্য বাস্তবসম্মত মনে করছেন না কৃষি অর্থনীতিবিদরা। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, "যদি মজুদ থেকেই থাকে, তবে মাঠে সার পৌঁছাচ্ছে না কেন? রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সার বিপণন খাতে নতুন মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের আবির্ভাব ঘটেছে কি না, তা সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।" একই সঙ্গে বাজার স্বচ্ছ করতে উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক দৈনিক বরাদ্দ এবং সরবরাহের তথ্য উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যমান পেক্ষাপটে সারের সুষম ও নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে আমন মৌসুমে খাদ্য শস্য উৎপাদনে বড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.