বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় সাইপ্রাস, গ্রিস ও বুলগেরিয়া থেকে ৪০ জন বাংলাদেশিকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করলে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় তাঁদের গ্রহণ করা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ইউরোপ থেকে ফেরত পাঠানো ৪০ জনের মধ্যে ২৪ জন সাইপ্রাস, ১৫ জন গ্রিস এবং ১ জন বুলগেরিয়ায় অবস্থান করছিলেন। অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সিআইডি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভসেকের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, তাঁদের জরুরি সহায়তা ও প্রাথমিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক কথাবার্তায় জানতে পেরেছি, তাদের সঙ্গে ইউরোপে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। ফলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা প্রত্যেককে ২৯ হাজার টাকা করে সর্বমোট প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ও খাবার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য তাঁদের কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক ট্র্যাকিং দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ইউরোপে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সুশৃঙ্খলভাবে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। সেই সমঝোতার আলোকেই নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই শেষে নিয়মিত বিরতিতে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ইইউর এই কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আগামী দিনগুলোতে অনিয়মিত উপায়ে ইউরোপে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশিদের ফেরত আসার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।