পরিপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি এবং আংশিক বিল পাশের মাধ্যমে সংস্কার উদ্যোগকে চাপা দেওয়ার অভিযোগ এনে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন ও আইন প্রণয়ন কার্যাবলি শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত রূপান্তরের লক্ষ্য জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ে বিলে রূপান্তরিত না হওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় বিতর্কিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপনের দিনক্ষণ নির্ধারিত হলে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংস্থাকে বাদ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে গুমের তদন্ত পরিচালনা ও স্বাধীন কমিশন গঠনে ঘাটতির আইনগত ধারাসমূহ নিয়েই মূল আপত্তির সূচনা।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেখছি যে সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলো আস্তে আস্তে বিভিন্ন কায়দায় সরকারি দল এখানে নিয়ে আসছে। সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে, একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এ ধরনের বিলে অংশ নিতে চাই না।”
বিরোধীদলীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিয়ে মৌলিক কমিশনের সংস্কারগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি যে এর মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হয়। আমরা পুরা সংস্কার চাই, গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং এইভাবে খণ্ডিত কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না। তাই এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি, আমরা আবার ওয়াকআউট করছি।”
বিরোধী দল সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর সংসদীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও, নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রস্তাবিত খসড়া বিলগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে মনে করছেন সংসদবিষয়ক বিশ্লেষকেরা।