ফেনীর সোনাগাজীর চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের আপিলের ওপর সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী রাযের নথি হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয় এবং গত ১৪ জুন প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এর আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়। গত ২৮ জুলাই চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়ে ২০ আগস্ট শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।মামলার এজাহার ও নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে সম্মত না হওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় আশঙ্কাজনক নুসরাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। সারা দেশে তীব্র আলোড়ন তোলা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছিল।আজ হাইকোর্টের বহাল রায়ের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ সম্পন্ন হলো। আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবে কি না, সে সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে।