× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে আলাদা অধিদপ্তর করছে সরকার

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ এএম । আপডেটঃ ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০১ এএম

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন অধিদপ্তর গঠন-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’ সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নীতি নির্ধারণী সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতি আহমেদ আযম খান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি এভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো স্বজনকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ২০০৯ সালের পর থেকে দেশে ভোটাধিকার হরণ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম-খুনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনাকে ক্ষুণ্ন করার কঠোর সমালোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের মূল ভাবনা ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা, অবাধ ভোটাধিকার এবং রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ করা। সেই চেতনা রক্ষা করতে গিয়ে যাঁদের জীবন ও পরিবার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রেপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:


  • নতুন অধিদপ্তর গঠন: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুনির্দিষ্ট একটি বিশেষায়িত অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা।


  • আইন প্রণয়ন: ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন তৈরি।


  • বিধিমালা সংশোধন: ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’ সংশোধন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই দায়িত্বভার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধির আওতাভুক্ত করা।

উক্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, আইন, অর্থ, জনপ্রশাসন, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করে সর্বসম্মত মতামত ব্যক্ত করেন।


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.